0 votes
19 views
in Food & Drink by (25 points)
আসসালামুয়ালাইকুম ,কেউ যদি দুর্ভিক্ষের আশংকা করে ঘরের বাচ্চা বৃদ্ধ দের কথা ভেবে এক কিংবা দুই মাসের খাবার কিনে রাখে ,তাহলে সেটা কি ইসলাম এ জায়েজ আছে ?

যদি না থাকে কিংবা যদি জায়েজ থাকেও সেক্ষেত্রে দুর্ভিক্ষ আশংকার ক্ষেত্রে মুমিনের কি করণীয় ?

1 Answer

0 votes
ago by (22.8k points)
বিসমিহি তা'আলা

জবাবঃ-

চার মাযহাব সম্বলীত সর্ব বৃহৎ ফেক্বাহী গ্রন্থ
"আল-মাওসু'আতুল ফেক্বহিয়্যায়ঃ(২/৩৪৮) " বর্ণিত রয়েছে,

وَإِنْ كَانَ لِتَأْمِينِ حَاجَاتِ نَفْسِهِ وَعِيَالِهِ فَهُوَ الاِدِّخَارُ.

وَاتَّفَقَ الْفُقَهَاءُ عَلَى جَوَازِ الاِدِّخَارِ فِي الْجُمْلَةِ دُونَ تَقْيِيدٍ بِمُدَّةٍ عِنْدَ الْجُمْهُورِ، وَهُوَ الأَْوْجَهُ عِنْدَ الشَّافِعِيَّةِ - وَلَهُمْ وَجْهٌ آخَرُ أَنَّهُ يُكْرَهُ ادِّخَارُ مَا فَضَل عَنْ كِفَايَتِهِ لِمُدَّةِ سَنَةٍ
নিজ এবং নিজের ফ্যামিলির প্রয়োজন পূরণ করতে খাদ্যকে গোদামজাত করা জায়েয আছে।জুমুহুর ফুকাহায়ে কেরাম কোনো প্রকার সময়সীমার উল্লেখ ব্যতীত জায়েয বলে থাকেন।হ্যা কেউ কেউ এক বৎসর পর্যন্ত অনুমতি দেন এবং এক বৎসরের বেশী সময়ের গোদামজাত-কে মাকরুহ বলে আখ্যায়িত করেন।তাদের দলীল হল,রাসূলুল্লাহ সাঃ খায়বারের বনু নযীর গোত্রের খেজুর বাগান হস্তগত হওয়ার পর,সেই বাগান থেকে নিজ পরিবারবর্গের জন্য এক বৎসর চলার সমপরিমাণ খেজুর রেখে অবশিষ্টাংশকে বিক্রি করে দিতেন।

রাষ্ট্র প্রয়োজনের সময়ের জন্য গোদামজাত করতে পারবে।কেননা হযরত ইউসুফ আলাইহিসসাল,এর গোদামজাত করণের ঘটনাকে আল্লাহ তা'আলা প্রশংসাজনক ভাবে উল্লেখ করে বলেছেন।(এবং ইসলামী শরীয়তের কোনো মূলনীতি ও সেটাকে অস্বীকার করে না।)

আল্লাহ তা'আলা বলেন,

ﻳُﻮﺳُﻒُ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟﺼِّﺪِّﻳﻖُ ﺃَﻓْﺘِﻨَﺎ ﻓِﻲ ﺳَﺒْﻊِ ﺑَﻘَﺮَﺍﺕٍ ﺳِﻤَﺎﻥٍ ﻳَﺄْﻛُﻠُﻬُﻦَّ ﺳَﺒْﻊٌ ﻋِﺠَﺎﻑٌ ﻭَﺳَﺒْﻊِ ﺳُﻨﺒُﻼَﺕٍ ﺧُﻀْﺮٍ ﻭَﺃُﺧَﺮَ ﻳَﺎﺑِﺴَﺎﺕٍ ﻟَّﻌَﻠِّﻲ ﺃَﺭْﺟِﻊُ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﻟَﻌَﻠَّﻬُﻢْ ﻳَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ

সে তথায় পৌঁছে বললঃ হে ইউসুফ! হে সত্যবাদী! সাতটি মোটাতাজা গাভী-তাদেরকে খাচ্ছে সাতটি শীর্ণ গাভী এবং সাতটি সবুজ শীর্ষ ও অন্যগুলো শুষ্ক; আপনি আমাদেরকে এ স্বপ্ন সম্পর্কে পথনির্দেশ প্রদান করুনঃ যাতে আমি তাদের কাছে ফিরে গিয়ে তাদের অবগত করাতে পারি।

ﻗَﺎﻝَ ﺗَﺰْﺭَﻋُﻮﻥَ ﺳَﺒْﻊَ ﺳِﻨِﻴﻦَ ﺩَﺃَﺑًﺎ ﻓَﻤَﺎ ﺣَﺼَﺪﺗُّﻢْ ﻓَﺬَﺭُﻭﻩُ ﻓِﻲ ﺳُﻨﺒُﻠِﻪِ ﺇِﻻَّ ﻗَﻠِﻴﻼً ﻣِّﻤَّﺎ ﺗَﺄْﻛُﻠُﻮﻥَ

বললঃ তোমরা সাত বছর উত্তম রূপে চাষাবাদ করবে। অতঃপর যা কাটবে, তার মধ্যে যে সামান্য পরিমাণ তোমরা খাবে তা ছাড়া অবশিষ্ট শস্য শীষ সমেত রেখে দেবে।

ﺛُﻢَّ ﻳَﺄْﺗِﻲ ﻣِﻦ ﺑَﻌْﺪِ ﺫَﻟِﻚَ ﺳَﺒْﻊٌ ﺷِﺪَﺍﺩٌ ﻳَﺄْﻛُﻠْﻦَ ﻣَﺎ ﻗَﺪَّﻣْﺘُﻢْ ﻟَﻬُﻦَّ ﺇِﻻَّ ﻗَﻠِﻴﻼً ﻣِّﻤَّﺎ ﺗُﺤْﺼِﻨُﻮﻥَ

এবং এরপরে আসবে দূর্ভিক্ষের সাত বছর; তোমরা এ দিনের জন্যে যা রেখেছিলে, তা খেয়ে যাবে, কিন্তু অল্প পরিমাণ ব্যতীত, যা তোমরা তুলে রাখবে।

(সূরা ইউসুফ-৪৬-৪৮)

উক্ত আয়াতের ব্যখ্যায় ইমাম কুরতুবী রাহ লিখেন-

"وهذا يدل على جواز احتكار الطعام لوقت الحاجة"

এই আয়াত সম্ভলিত ঘটনা এটাই প্রমাণ করে যে,প্রয়োজনের সময় খাদ্য গোদামজাত করা জায়েয আছে।(তাফসীরে কুরতুবী-৯/২০৩)

মাওসুআতুল ফেকহিয়্যাহ-২/৩৫০

আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

উত্তর লিখনে
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ, Iom.
পরিচালক
ইসলামিক রিচার্স কাউন্সিল বাংলাদেশ

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনার দ্বীন সম্পর্কীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য রয়েছে আমাদের  অভিজ্ঞ ওলামায়কেরাম ও মুফতি সাহেবগনের একটা টিম যারা ইনশাআল্লাহ প্রশ্ন করার ২৪-৪৮ ঘন্টার সময়ের মধ্যেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন।

506 questions

501 answers

70 comments

331 users

19 Online Users
0 Member 19 Guest
Today Visits : 4296
Yesterday Visits : 5518
Total Visits : 930020
...